Bangladesh Constitution and Legislative Process - Salima Jannath Lyra

 Q1. Defination of Constitution. Different types of constitution discussion.

সংবিধানের সংজ্ঞা (Definition of Constitution)

সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের মৌলিক আইন, যা রাষ্ট্রের কাঠামো, শাসনব্যবস্থা, বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা ও কার্যপদ্ধতি এবং নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করে। এটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনগত ভিত্তি, যা শাসনকার্য পরিচালনার মৌলিক নীতি ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে। বিখ্যাত রাজনৈতিক চিন্তাবিদ A.V. Dicey বলেছেন—“The constitution is the set of rules which directly or indirectly affect the distribution and exercise of the sovereign power in the state.” অর্থাৎ, সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার ব্যবহার ও বণ্টনের নিয়মাবলি নির্ধারণ করে।

সংবিধান লিখিত বা অলিখিত যেকোনো রূপে হতে পারে, তবে এর মূল উদ্দেশ্য হলো শাসকদের ক্ষমতা সীমিত করা, নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা করা এবং রাষ্ট্রে আইন-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

সংবিধানের প্রকারভেদ (Different Types of Constitution)

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংবিধানের রূপ ভিন্ন ভিন্ন, যা প্রধানত কয়েকটি মানদণ্ড অনুযায়ী বিভক্ত করা যায়—

১. লিখিত ও অলিখিত সংবিধান (Written and Unwritten Constitution)

  • লিখিত সংবিধান: এখানে রাষ্ট্রের মৌলিক আইন ও বিধানসমূহ একত্রে একটি প্রামাণ্য নথিতে সন্নিবেশিত থাকে। উদাহরণ: যুক্তরাষ্ট্র (1787), বাংলাদেশ (1972), ভারত (1950) ইত্যাদি।

  • অলিখিত সংবিধান: এখানে সংবিধানের বিধান একক নথিতে সংকলিত নয়; বরং প্রচলিত প্রথা, ঐতিহ্য, আইন, আদালতের রায় ইত্যাদির সমষ্টি দ্বারা গঠিত। উদাহরণ: যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড।

২. নমনীয় ও কঠোর সংবিধান (Flexible and Rigid Constitution)

  • নমনীয় সংবিধান: সহজ প্রক্রিয়ায়, সাধারণ আইন প্রণয়নের মতো পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা যায়। উদাহরণ: যুক্তরাজ্য।

  • কঠোর সংবিধান: সংশোধনের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া ও কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। উদাহরণ: যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ভারত।

৩. একক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান (Unitary and Federal Constitution)

  • একক সংবিধান: কেন্দ্রীয় সরকার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী; প্রশাসনিক এককগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন। উদাহরণ: বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জাপান।

  • যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান: কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক/রাজ্য সরকারের মধ্যে ক্ষমতা সংবিধান দ্বারা বিভক্ত। উদাহরণ: যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, কানাডা।

৪. প্রণীত ও বিকশিত সংবিধান (Enacted and Evolved Constitution)

  • প্রণীত সংবিধান: নির্দিষ্ট সময়ে, বিশেষভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদ কর্তৃক রচিত ও অনুমোদিত। উদাহরণ: যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ।

  • বিকশিত সংবিধান: দীর্ঘ সময় ধরে প্রথা, বিচারিক রায় ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। উদাহরণ: যুক্তরাজ্য।

উপসংহার

সংবিধান হলো রাষ্ট্রের জীবনধারা, যা সরকার ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে। এটি শুধুমাত্র একটি আইনি দলিল নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের আদর্শ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন। বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ধরণের সংবিধান থাকলেও এর মূল লক্ষ্য সর্বদা একই—রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা।

https://www.ebookbou.edu.bd/Books/Text/OS/SSC/ssc_2606/Unit-11.pdf



Q2. Constitution making history of Bangladesh

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন একটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি স্থাপন করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রয়োজন হয় একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান, যা নতুন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামো, নাগরিক অধিকার, শাসনব্যবস্থা এবং জাতীয় আদর্শ নির্ধারণ করবে।

সংবিধান প্রণয়নের সূচনা

১৯৭1 সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কাঠামো গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদে সংবিধান প্রণয়ন কমিটি (Constitution Drafting Committee) গঠন করা হয়।

সংবিধান প্রণয়ন কমিটি

কমিটির সভাপতি ছিলেন জাতীয় পরিষদের স্পিকার ড. কামাল হোসেন। সদস্য ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, মনোরঞ্জন ধর, আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শাহ মো. আব্দুল্লাহ প্রমুখ। এই কমিটি স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের দায়িত্ব পায়।

সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন ও অনুমোদন

সংবিধান প্রণয়ন কমিটি স্বাধীনতা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের ঘোষণাপত্র, জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদ এবং বিশ্বের অন্যান্য সংবিধানের ইতিবাচক দিক পর্যালোচনা করে একটি খসড়া তৈরি করে। ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর খসড়াটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়। আলোচনার পর ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদ সর্বসম্মতভাবে সংবিধান অনুমোদন করে।

সংবিধান কার্যকর হওয়া

বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়, যা বিজয় দিবসের সাথে মিল রেখে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সংবিধানের মূলনীতি

বাংলাদেশের সংবিধান প্রস্তাবনায় চারটি মৌলিক রাষ্ট্রনীতি ঘোষণা করা হয়:
১. জাতীয়তাবাদ
২. সমাজতন্ত্র (অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার)
৩. গণতন্ত্র
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা

এগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।

গুরুত্ব

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া ছিল স্বল্প সময়ে ও দ্রুততার সাথে সম্পন্ন একটি ঐতিহাসিক কাজ। মাত্র ১০ মাসে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান প্রণয়ন বিশ্বের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা, নাগরিক অধিকার ও শাসন কাঠামোকে সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে এবং আজও জাতীয় জীবনের মূল দিকনির্দেশনা প্রদান করছে।


Q3. Fundamental State Principles. 

বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক রাষ্ট্রনীতি (Fundamental State Principles)

বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেল ৮-এ চারটি মৌলিক রাষ্ট্রনীতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি। এই রাষ্ট্রনীতিগুলো হলো জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। এই চারটি নীতিই বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চাবিকাঠি এবং জাতীয় জীবনের মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রথমত, জাতীয়তাবাদ নীতি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই নীতিই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল। জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে দেশে বাস করা বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্রে নিয়ে আসা হয় এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। এই নীতি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় সাহায্য করে, যা একটি স্বাধীন দেশের জন্য অপরিহার্য।

দ্বিতীয়ত, সমাজতন্ত্র নীতির লক্ষ্য হলো দেশের সম্পদ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এমনভাবে পরিচালনা করা যাতে তা দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য ন্যায্য ও সমানভাবে পৌঁছে। সমাজতন্ত্র মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও শোষণ দূর করার চেষ্টা করে। বাংলাদেশে এই নীতির আওতায় শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্র সম্পদের সমবণ্টন এবং জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

তৃতীয়ত, গণতন্ত্র নীতি বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রাণশক্তি। গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি বা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেয়। এটি সকল নাগরিকের সমান ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের সামনে সমতার অধিকার নিশ্চিত করে। গণতন্ত্রের মাধ্যমে সরকারের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ রাখা হয় এবং শাসনের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিকাশ স্বাধীনতার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

চতুর্থত, ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী নয় এবং সকল ধর্মের প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শন করে। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি নিশ্চিত করে যে, কোনো নাগরিক ধর্মের কারণে বৈষম্যের শিকার হবে না এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা সবার জন্য সুরক্ষিত থাকবে। বাংলাদেশে এই নীতির ফলে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা হয়েছে, যা জাতির ঐক্য ও শান্তির জন্য অপরিহার্য।

এই চারটি মৌলিক রাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশের সংবিধানের প্রাণ ও প্রাণবন্ত অংশ হিসেবে দেশের সমস্ত আইন, নীতি ও শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে। এগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা দেয় এবং দেশের স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক কথায়, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা একসাথে মিলিয়ে বাংলাদেশের আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গঠন করেছে এবং জাতির স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।


Q4. Fundamental rights according to the constitution of Bangladesh

বাংলাদেশ সংবিধানের ১৮টি মৌলিক অধিকার (সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যাসহ)

১. আইনের সমতা ও সুরক্ষা
সব নাগরিক আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং আইন সবাইকে সমান সুরক্ষা দেবে।

২. স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
অবৈধভাবে কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা যাবে না, এবং প্রত্যেকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংরক্ষিত থাকবে।

৩. বিচারের অধিকার ও স্বচ্ছ বিচার
সব নাগরিক দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে।

৪. বক্তব্য ও প্রকাশের স্বাধীনতা
মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্র প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে আইনের সীমানায়।

৫. সমিতি ও সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা
শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠন ও সমিতি গঠন করার অধিকার থাকবে।

৬. সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের অধিকার
সরকারি তথ্য ও নথি সম্পর্কে নাগরিকদের জ্ঞাতব্য ও প্রকাশের অধিকার থাকবে।

৭. ধর্ম স্বাধীনতা
ধর্ম অনুসরণ, পালনের এবং ধর্ম পরিবর্তনের স্বাধীনতা থাকবে।

৮. শিক্ষার অধিকার
সকল নাগরিকের মৌলিক শিক্ষার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

৯. অবৈধ গ্রেপ্তার ও আটক থেকে মুক্তি
আইনের সুরক্ষায় অবৈধ গ্রেপ্তার বা কারাদণ্ড থেকে মুক্ত থাকার অধিকার।

১০. শ্রমিক অধিকার ও সংগঠনের স্বাধীনতা
শ্রমিকেরা তাদের অধিকার রক্ষার জন্য সংগঠন গঠন করতে পারবেন।

১১. সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ
দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে।

১২. বৈষম্য থেকে সুরক্ষা
জাতি, বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ বা ভাষার ভিত্তিতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুরক্ষা থাকবে।

১৩. ভোটাধিকার
সকল পূর্ণবয়স্ক নাগরিকের সমান ভোটাধিকার থাকবে।

১৪. মৌলিক ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গোপনীয়তা
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা হবে।

১৫. অবৈধ শাস্তি থেকে মুক্তি
কোনো ব্যক্তিকে দণ্ড দেওয়ার পূর্বে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হবে।

১৬. সুশাসন ও জবাবদিহিতা
সরকার ও প্রশাসন সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দায়িত্বশীল থাকবে।

১৭. শোষণ ও অন্যায় থেকে মুক্তি
সকল নাগরিককে শোষণ, অত্যাচার ও অন্যায় থেকে রক্ষা করা হবে।

১৮. পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
পরিবেশ রক্ষা ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অধিকার থাকবে।

Another link for more details answer.


Q5. Composition and Function of the "Jatiya Sangsad"

জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) এর গঠন ও কার্যাবলি

বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের প্রধান শাসন প্রতিষ্ঠান হলো জাতীয় সংসদ, যা একক কক্ষবিশিষ্ট এককক্ষীয় আইনসভা। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা এবং এটি দেশের আইন শৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি।

জাতীয় সংসদের গঠন (Composition of Jatiya Sangsad)

জাতীয় সংসদে মোট সদস্য সংখ্যা সর্বাধিক ৩৫০ জন। এর মধ্যে:

  • সরাসরি নির্বাচিত ৩০০ জন সদস্য (সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে একজন করে)

  • সংরক্ষিত মহিলা আসনের ৫০ জন সদস্য, যারা নির্বাচিত ৩০০ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন।

জাতীয় সংসদের সদস্যদের মেয়াদ সাধারণত ৫ বছর। সংসদ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করেন। তবে, জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিতে পারেন এবং নতুন নির্বাচন ঘোষণাও করতে পারেন।

জাতীয় সংসদের কার্যাবলি (Functions of Jatiya Sangsad)

জাতীয় সংসদের প্রধান কাজ হলো দেশের আইন প্রণয়ন। নতুন আইন প্রণয়ন, পুরাতন আইন সংশোধন ও বাতিল করা এই সংসদের কর্তব্য।

সংসদ:

  • সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্বাহী শাখার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে। প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদেরই সদস্য হতে হয়।

  • বাজেট অনুমোদন করা এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতিমালা নির্ধারণ করা।

  • সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও নীতিমালা নিরীক্ষণ ও মূল্যায়ন।

  • রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জাতীয় নীতিমালা নির্ধারণ।

  • নাগরিকদের অধিকার ও কল্যাণ সংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।

সংসদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া।

  • প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতিশ্রুতি গ্রহণ।

  • সংসদের সদস্যরা সরকারকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রশ্নোত্তর, মতবিনিময় ও বৈঠকের মাধ্যমে।

  • জরুরি অবস্থার ঘোষণা ও আইন প্রণয়ন।

উপসংহার

জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র, যেখানে জনগণের প্রতিনিধি রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারণ করে। এটি একটি স্বতন্ত্র, সম্মানিত ও জবাবদিহিতাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


Q6. Law making process of Bangladesh.

বাংলাদেশে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া (Law Making Process of Bangladesh)

বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আইন প্রণয়ন। আইন হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দিকনির্দেশনা, যা নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করে এবং শাসন ব্যবস্থার সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করে। সংবিধান অনুসারে আইন প্রণয়নের একমাত্র কর্তৃপক্ষ হলো জাতীয় সংসদ, যেখানে দেশের জনগণের প্রতিনিধিরা বসে দেশের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন বা পুরনো আইন সংশোধন করেন।

১. বিলের সূচনা (Initiation of a Bill)

আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয় একটি প্রস্তাব বা ‘বিল’ (Bill) তৈরি করে। এই বিল হতে পারে সরকার কর্তৃক উপস্থাপিত বা সংসদের সাধারণ সদস্য কর্তৃক প্রস্তাবিত। সরকারী বিল বা ‘Government Bill’ সাধারণত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা তৈরি করে যা দেশের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী গঠিত হয়। অপরদিকে, ‘Private Member’s Bill’ সংসদের যেকোনো সদস্য উপস্থাপন করতে পারেন, তবে এগুলো আইন হিসেবে গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।

বিলের মূল উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নতুন আইন প্রণয়ন বা বিদ্যমান আইন সংশোধন করা। এটি একটি লিখিত প্রস্তাবনা, যা সংসদে পাঠানোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়া শুরু হয়।

২. প্রথম পাঠ (First Reading)

বিল সংসদে প্রথমবার উপস্থাপিত হলে তাকে ‘প্রথম পাঠ’ বলা হয়। এই পর্যায়ে বিলের সারসংক্ষেপ সংসদের সামনে উপস্থাপন করা হয় এবং সদস্যরা বিল সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পায়। তবে এই পর্যায়ে সাধারণত কোনো বিতর্ক বা বিস্তারিত আলোচনা হয় না। এটি একটি আনুষ্ঠানিক ধাপ যা বিলকে সংসদে গ্রহণযোগ্যতা দেয়।

৩. দ্বিতীয় পাঠ ও বিস্তারিত আলোচনা (Second Reading and Debate)

বিলের ‘দ্বিতীয় পাঠ’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, যেখানে সংসদের সদস্যরা বিলের বিভিন্ন ধারার ওপর বিস্তারিত আলোচনা ও বিতর্ক করেন। সদস্যরা বিলের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত প্রদান করেন, এবং প্রয়োজনে সংশোধনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন। এই পর্যায়ে বিলের নীতিগত দিকগুলো পর্যালোচনা করা হয় এবং আইন প্রণয়নের সার্বিক উপযোগিতা যাচাই করা হয়।

আলোচনার পর সংসদ প্রয়োজনে একটি পার্লামেন্টারি কমিটি গঠন করে, যা বিলের প্রতিটি ধারা বিশদভাবে পর্যালোচনা করে। এই কমিটি সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে সংসদে রিপোর্ট দেয়।

৪. কমিটির পর্যায় (Committee Stage)

পার্লামেন্টারি কমিটি বিলের বিভিন্ন ধারাগুলো খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করে। তারা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে এবং সংশোধনীর প্রস্তাব দেয়। কমিটি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণ করতে পারে। এই পর্যায়ে বিলের অনেক সংশোধনী হতে পারে, যা বিলকে আরো কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করে তোলে।

৫. তৃতীয় পাঠ ও চূড়ান্ত অনুমোদন (Third Reading and Final Passage)

কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর বিল সংসদে পুনরায় উপস্থাপিত হয়, যাকে ‘তৃতীয় পাঠ’ বলা হয়। এখানে বিলের সংশোধিত রূপ সংসদের কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং সদস্যরা তা সম্পর্কে শেষ আলোচনা করেন। এরপর সংসদে ভোটাভুটি হয়। সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেলে বিল গৃহীত হয়।

৬. রাষ্ট্রপতির অনুমোদন (Presidential Assent)

সংসদে গৃহীত বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়া বিল আইন হিসেবে কার্যকর হয় না। রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলে বিল সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয় এবং তা আইন হিসেবে প্রযোজ্য হয়। রাষ্ট্রপতি অনুমোদন না দিলে বিল সংসদে ফেরত পাঠানো হয়, এবং সংসদ যদি পুনরায় বিল পাস করে তবে রাষ্ট্রপতি বাধ্য হন অনুমোদন দিতে।

৭. আইন হিসেবে কার্যকর হওয়া (Becoming Law)

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিল আইন হিসেবে কার্যকর হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলো সেই আইন অনুযায়ী কাজ শুরু করে এবং দেশের নাগরিকরা আইনটির আওতায় আসে। আইন দেশের আইনশৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে।

উপসংহার

বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া একটি জটিল, কিন্তু গণতান্ত্রিক ও নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া, যা দেশের শাসনব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের জনগণের প্রতিনিধি নতুন আইন প্রণয়ন করে দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করে। আইন প্রণয়নের প্রতিটি ধাপেই স্বচ্ছতা, জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব অটুট থাকে।



Q7. Power and function of the President of Bangladesh. ( eita final er jonno confirm )

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি (Power and Function of the President of Bangladesh)

বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান রাষ্ট্রপ্রধান এবং সংবিধানগতভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা মূলত সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক এবং কার্যত সরকারের প্রধান নির্বাহী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাই দেশের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে। তবুও রাষ্ট্রপতির একটি গুরুত্বপুর্ণ সংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির গঠন ও নির্বাচন

রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের সদস্যদের মধ্য থেকে গোপন ভোটে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি পুনঃনির্বাচিতও হতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি

১. আইনি ক্ষমতা
রাষ্ট্রপতি সংসদে গৃহীত আইন অনুমোদন করেন। কোনো বিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়া আইন হিসেবে কার্যকর হয় না। যদি রাষ্ট্রপতি কোনো বিল অনুমোদন না করেন, তবে সংসদ পুনরায় তা পাস করলে রাষ্ট্রপতি বাধ্য হন অনুমোদন দিতে।

২. সরকার গঠন ও প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন
রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন করেন। সরকার গঠনের জন্য তিনি মন্ত্রিসভা গঠন ও সদস্যদের শপথ গ্রহণ করান।

৩. সংবিধান রক্ষা ও শাসন ব্যাহত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ
রাষ্ট্রপতি সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। যদি সংসদ ভেঙে দেয়া হয় বা শাসন ব্যাহত হয়, রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন এবং অস্থায়ী সরকার গঠন করতে পারেন।

৪. রাষ্ট্রপতির অমর্যাদা ও ক্ষমা ক্ষমতা
রাষ্ট্রপতি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা, সাজা কমানো বা স্থগিত করার ক্ষমতা রাখেন। তিনি বিচারিক আদেশের প্রতি ক্ষমা প্রয়োগ করতে পারেন, তবে এটি সাধারণত পরামর্শমূলক হয়।

৫. বাহ্যিক সম্পর্ক ও কূটনীতি
রাষ্ট্রপতি বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের আদর স্বরূপ স্বীকৃতি দেন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সংবিধি অনুমোদন করেন।

৬. রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্ট অধিবেশন আহ্বান ও স্থগিত করতে পারেন
রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান বা স্থগিত করার ক্ষমতা রাখেন।

৭. অন্যান্য সাংবিধানিক ক্ষমতা
রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন জাতীয় ও সরকারি পদে নিয়োগ দেন যেমন বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনার, সেনা প্রধান ইত্যাদি।

উপসংহার

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি একটি সাংবিধানিক পদ, যার প্রধান কাজ সংবিধান রক্ষা ও রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা। যদিও কার্যনির্বাহী ক্ষমতার প্রধান অংশ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে, রাষ্ট্রপতির ভূমিকা সমন্বয় ও শাসন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

.

Q8. জাতীয় সংসদের গঠন ও কার্যকারিতা আলোচনা কর


বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভা হলো জাতীয় সংসদ। এটি এককক্ষবিশিষ্ট (unicameral) সংসদ, যা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বারা গঠিত। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি হলো এই সংসদ।

জাতীয় সংসদের গঠন

১. সংসদ সদস্যের সংখ্যা

  • বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে মোট ৩০০টি আসন রয়েছে, যা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়।

  • এছাড়া ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে, যেগুলো সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর আসন অনুপাতে মনোনীত নারী সদস্য দ্বারা পূরণ করা হয়।

  • ফলে মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫০ জন

২. নির্বাচন পদ্ধতি

  • সাধারণ আসনের সংসদ সদস্যগণ সাধারণ ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।

  • এক ব্যক্তি এক ভোট নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক নাগরিক তার প্রতিনিধি নির্বাচিত করার অধিকার রাখে।

  1. সদস্যপদের যোগ্যতা ও মেয়াদ

    • একজন প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।

    • সংসদের মেয়াদ ৫ বছর, তবে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনে সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।

৪. স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার

  • সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।

জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা

জাতীয় সংসদ শুধু আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং দেশের নীতি নির্ধারণ, প্রশাসন তত্ত্বাবধান এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনের মূল কেন্দ্র। এর প্রধান কার্যাবলী নিম্নরূপ –

১. আইন প্রণয়ন

  • সংসদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো আইন প্রণয়ন করা। রাষ্ট্রের সব নীতি, আইন, বিধি সংসদে আলোচনা ও ভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়।

২. বাজেট অনুমোদন

  • বার্ষিক বাজেট সংসদে উপস্থাপন করা হয় এবং সংসদ তা অনুমোদন ছাড়া কোনো অর্থ সরকারি খাতে ব্যয় করা যায় না।

৩. কার্যনির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ

  • সংসদ সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব, আলোচনার মাধ্যমে মন্ত্রী পরিষদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

৪. রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন ও নিয়ন্ত্রণ

  • সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হন।

  • রাষ্ট্রপতি সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।

৫. আন্তর্জাতিক চুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনুমোদন

  • গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত সংসদের আলোচনার মাধ্যমে অনুমোদন পায়।

৬. জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা

  • সংসদ সদস্যরা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা সংসদে উপস্থাপন করেন এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো জাতীয় নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত করার সুযোগ পান।

৭. সংবিধান সংশোধন

  • সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা শুধুমাত্র জাতীয় সংসদের হাতে নিহিত।

উপসংহার

জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র। এর মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে। আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন, প্রশাসনিক তত্ত্বাবধান এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংসদ রাষ্ট্রকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিচালিত করে। তাই জাতীয় সংসদ শুধু আইনসভা নয়, বরং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু।

Final Exam Suggestion


Q1. Caretaker government and 13th amendment. 

Caretaker Government এবং ১৩তম সংশোধনী : ধারণা, পটভূমি, গঠন ও কার্যাবলি

ভূমিকা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে “কেয়ারটেকার সরকার” বা “নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা” এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৯১–১৯৯৬ সময়কালে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভোটারদের আস্থা সংকট এবং ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত না হওয়ার আশঙ্কা থেকে এই ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। একই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সংবিধানে ১৩তম সংশোধনী পাস করা হয়, যার মাধ্যমে Caretaker Government একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। নিচে ধারাবর্ণনায় আলোচিত হলো—

১. Caretaker Government: ধারণা (Concept)

Caretaker Government এমন একটি নিরপেক্ষ ও দলনিরপেক্ষ অস্থায়ী সরকারব্যবস্থা, যা নির্বাচনের সময় নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য গঠিত হয়।

  • এটি অরাজনৈতিক, অর্থাৎ কোনো রাজনৈতিক নেতা এতে পদ পান না।

  • প্রধান দায়িত্ব হলো— জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা।

  • এই সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করে, তবে নীতিনির্ধারণী বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না।

২. পটভূমি (Background)

১৯৯০ সালে স্বৈরশাসনের পতনের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯১–১৯৯৫ সময়কালে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়।
এ অবস্থায় দেখা দেয় কিছু রাজনৈতিক সংকট—

• (১) ১৯৯৪ সালের মাগুরা-২ উপনির্বাচন বিতর্ক

এই উপনির্বাচনকে ব্যাপকভাবে কারচুপিযুক্ত বলা হয়, যা বিরোধী জোটকে দাবি তুলতে বাধ্য করে যে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

• (২) বিরোধী দলের ক্রমাগত অবরোধ-হরতাল

বিরোধী দলগুলোর দাবি ছিল—নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে।

• (৩) ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বর্জন

বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করে এবং নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

• (৪) রাজনৈতিক অচলাবস্থা

দেশে চরম রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়, এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি নিরপেক্ষ অস্থায়ী সরকারব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতিতেই Caretaker Government-কে সাংবিধানিক রূপ দেওয়ার জন্য ১৩তম সংশোধনী প্রণয়ন করা হয়।

৩. ১৩তম সংশোধনী (The Thirteenth Amendment), ১৯৯৬

ধারণা

১৩তম সংশোধনী হলো বাংলাদেশের সংবিধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, যার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ Caretaker Government ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করা হয়।

পাস হওয়ার সময়

  • পাস হয়: ২৬ মার্চ ১৯৯৬

  • সংযোজিত অনুচ্ছেদ: ৫৮বি, ৫৮সি, ৫৮ডি, ৫৮ই

  • এর মাধ্যমে Caretaker Government প্রথমবার সংবিধানের অংশ হয়।

৪. Caretaker Government-এর গঠন (Formation)

১৩তম সংশোধনী অনুযায়ী Caretaker Government-এর কাঠামো নিম্নরূপ—

(১) প্রধান উপদেষ্টা (Chief Adviser)

  • রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধান বিচারপতিদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ দিতেন।

  • কেউ রাজি না হলে অন্যান্য বিকল্প সূত্র অনুসরণ করা হতো।

  • প্রধান উপদেষ্টার মর্যাদা ছিল প্রধানমন্ত্রীর সমান।

(২) উপদেষ্টা পরিষদ

  • ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করা হতো;

  • উপদেষ্টাদের মর্যাদা মন্ত্রীর সমান;

  • তারা সকলেই অরাজনৈতিক হতে হতো।

(৩) মেয়াদ

  • নতুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়া পর্যন্ত Caretaker Government কার্যক্রম পরিচালনা করত;

  • সাধারণত তিন মাসের মতো সময়কাল স্থায়ী হতো।

৫. Caretaker Government-এর কার্যাবলি (Functions)

১৩তম সংশোধনীতে Caretaker Government-এর ক্ষমতা ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত ছিল—

(১) দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা

দেশকে স্থিতিশীল রাখা এবং সরকারি প্রশাসনকে স্বাভাবিকভাবে চালানো।

(২) সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন

  • নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা

  • আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা

  • সরকারি সম্পদের অপব্যবহার রোধ করা

(৩) নীতি পরিবর্তন না করা

Caretaker Government কোনো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারত না, যাতে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর প্রভাব না পড়ে।

(৪) নিরপেক্ষতা বজায় রাখা

কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।

৬. Caretaker Government-এর গুরুত্ব

  • বাংলাদেশে তিনবার (১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮) সফলভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছে।

  • জনগণের বিরাট আস্থা অর্জন করেছিল।

  • নির্বাচনী সুশাসন নিশ্চিত করেছে।

  • রাজনীতিতে সাময়িক স্থিতিশীলতা এনেছিল।

৭. সমাপ্তি বক্তব্য

Caretaker Government ব্যবস্থা একসময় বাংলাদেশে মুক্ত, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছে। ১৩তম সংশোধনী এটিকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয় এবং গণতন্ত্রের ধারাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। যদিও পরে এটি বাতিল করা হয়েছে, তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর গুরুত্ব অসামান্য। সংবিধান ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার আলোচনায় এই ব্যবস্থা এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।


Q2. Structure of Government under the constitution of Bangladesh. 

(বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সরকারের কাঠামো)**

ভূমিকা

১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক (Unitary)সংসদীয় গণতান্ত্রিকক্যাবিনেট-শাসিত (Cabinet / Ministerial Government) রাষ্ট্রব্যবস্থা অনুসরণ করে। রাষ্ট্রক্ষমতা সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত করা হয়েছে এবং এর মৌল কাঠামো তিনটি অঙ্গের ওপর দাঁড়ানো—

১. আইনসভা (Legislature – Jatiya Sangsad)

২. কার্যনির্বাহী বিভাগ (Executive – President + Prime Minister & Cabinet)

৩. বিচার বিভাগ (Judiciary)

নিচে সংবিধানের অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই কাঠামো, গঠন, কার্যাবলি, শপথ, আসনসংখ্যা ইত্যাদি বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো—

১. রাষ্ট্রের প্রকৃতি ও মৌল কাঠামো (Articles 1–7A)

Article 1 – রাষ্ট্রের নাম ও সীমা

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, এককেন্দ্রিক, সার্বভৌম রাষ্ট্র।

Article 7 – জনগণের সার্বভৌমত্ব

জনগণ সকল রাষ্ট্র ক্ষমতার উৎস।

২. আইনসভা (Legislature): Jatiya Sangsad (Articles 65–93)

২.১ গঠন (Formation)

Article 65(1)

জাতীয় সংসদ একটি এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা—members elected directly by the people.

মোট আসনসংখ্যা

  • ৩০০টি সাধারণ আসন (Article 65)

  • ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন (Article 65(3)) — মেয়াদ ভেদে পরিবর্তন হয়ে শেষ পর্যন্ত ৫০ করা হয়।

    • নারীরা নির্বাচিত সদস্যদের অনুপাত অনুযায়ী সংসদে নির্বাচিত হন।

মেয়াদ (Article 72)

  • সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।

২.২ সদস্যদের শপথ (Oath)

Article 148

সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন—

  • রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য,

  • সংবিধান রক্ষা,

  • কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের প্রতিশ্রুতি।

২.৩ কার্যাবলি (Functions) – Articles 65–93

১. আইন প্রণয়ন — Bills পাস করা।
২. বাজেট অনুমোদন — বার্ষিক অর্থবিল গ্রহণ।
৩. কার্যনির্বাহী বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ — প্রশ্নোত্তর, মন্ত্রীর জবাবদিহি।
৪. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (Article 48, indirectly)।
৫. সংবিধান সংশোধন (Article 142)।

৩. কার্যনির্বাহী বিভাগ (Executive Organ)

কার্যনির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োগ হলেও কার্যত প্রায় সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের হাতে থাকে। এটি একটি Cabinet-controlled parliamentary government

৩.১ রাষ্ট্রপতি (President) – Articles 48–56

গঠন ও নির্বাচন

  • রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন (Article 48(1))।

  • মেয়াদ: ৫ বছর (Article 50)।

শপথ (Oath) – Article 148

রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্র ও সংবিধান রক্ষার শপথ নেন।

কার্যাবলি (Functions)

  • প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি কাজ করেন (Article 48(3))।

  • প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ (Article 56)।

  • বিচারপতি নিয়োগ (Article 95)।

  • মন্ত্রিপরিষদ নিয়োগ।

  • আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদন।

  • জরুরি অবস্থা ঘোষণা (Article 141A)।

৩.2 প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) – Article 56(2–3)

গঠন

  • সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হন।

  • রাষ্ট্রপতি তাঁকে নিয়োগ করেন।

কার্যাবলি

১. মন্ত্রিপরিষদের প্রধান;
২. রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগের মূল দায়িত্ব তাঁর;
৩. নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ;
৪. প্রশাসন, পুলিশ, সামরিক বাহিনীসহ রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা;
৫. সংসদের কাছে জবাবদিহি।

৩.৩ মন্ত্রিপরিষদ (Cabinet / Council of Ministers) – Articles 55–56

Article 55(2)

বাংলাদেশে কার্যত মন্ত্রিপরিষদ-শাসিত সরকার (Cabinet Government) কার্যকর।
মন্ত্রিপরিষদ রাষ্ট্রের সমস্ত নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে।

গঠন

  • প্রধানমন্ত্রী

  • মন্ত্রী

  • প্রতিমন্ত্রী

  • উপমন্ত্রী

কার্যাবলি (Functions)

১. রাষ্ট্রের প্রশাসন পরিচালনা;
২. নীতি প্রণয়ন;
৩. বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুমোদন;
৪. আইন বাস্তবায়ন;
৫. সংসদের প্রতি জবাবদিহি থাকা।

৪. বিচার বিভাগ (Judiciary) – Articles 94–116

৪.১ গঠন

  • সুপ্রিম কোর্ট (High Court Division + Appellate Division)।

  • নিম্ন আদালত।

৪.২ কার্যাবলি

  • সংবিধান ব্যাখ্যা;

  • মৌলিক অধিকার রক্ষা;

  • রাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গের কর্মকাণ্ডের বৈধতা পরীক্ষা (Judicial Review)।

৫. ইউনিটারি বা এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা (Unitary Government System – Article 1)

বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক (Unitary) রাষ্ট্র, অর্থাৎ—

  • কেন্দ্রীয় সরকারই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী;

  • প্রশাসন ও নীতি-নির্ধারণ কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত;

  • প্রাদেশিক সরকার বা ফেডারেল কাঠামো নেই।

এই কাঠামো সরকারের সকল সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের প্রাধান্য নিশ্চিত করে।

৬. শপথ গ্রহণ (Oath Taking) – Article 148

সাংবিধানিক পদধারীরা (রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, বিচারপতি) সংবিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণ করেন।
শপথের লক্ষ্য—

  • রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য,

  • সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকার,

  • দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন।

৭. সংরক্ষিত নারী আসন (Reserved Seats for Women – Article 65(3))

জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে।

  • নির্বাচিত সাংসদদের অনুপাত অনুযায়ী দলগুলো নারী এমপি মনোনয়ন দেয়।

  • মেয়াদ সাধারণ আসনের মতো ৫ বছর।
    নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

উপসংহার

সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের সরকার কাঠামো একটি সংসদীয়, এককেন্দ্রিক, মন্ত্রিপরিষদ-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। আইনসভা, কার্যনির্বাহী ও বিচার বিভাগ পরস্পর পৃথক হলেও সাংবিধানিক ভারসাম্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রযন্ত্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। জনগণের সার্বভৌমত্ব, জবাবদিহি এবং সংবিধানই এই কাঠামোর মূল ভিত্তি।


Q3. Article 70 and its for and against logic. 

Article 70: Floor Crossing নিষেধাজ্ঞা

ভূমিকা

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০ (Article 70) হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত ধারা। এটি মূলত ফ্লোর-ক্রসিং (floor crossing) বা নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দলত্যাগ ও দলমত অমান্য করে ভোটদান নিষিদ্ধ করে। এর উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সরকার পতনের ষড়যন্ত্র রোধ করা। তবে এতে গণতন্ত্রের কিছু সীমাবদ্ধতাও তৈরি হয়েছে।

Article 70: কী বলা হয়েছে? (সংক্ষিপ্ত বিবরণ)

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী—
যদি কোনো সংসদ সদস্য—

  1. তাঁর মনোনয়নদাতা রাজনৈতিক দল থেকে রাজী-না-হয়ে দলত্যাগ করেন, অথবা

  2. সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন,

তাহলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য (vacant) বলে গণ্য হবে।

অনুচ্ছেদ ৭০ কেন করা হলো? (ঐতিহাসিক পটভূমি)

১৯৭২–৭৫ সময়কালে পাকিস্তানের মতো দলে-দলে এমপি কেনা-বেচা, দল-বদল, ভোটে প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে এই ধারা যুক্ত করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল—

  • সরকারের স্থায়িত্ব রক্ষা

  • রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করা

  • প্রশাসনিক অস্থিরতা ঠেকানো

Article 70-এর পক্ষে যুক্তি (Arguments in Favour)

নিচে পরীক্ষায় লেখার মতো বিস্তারিত পয়েন্ট আকারে বর্ণনা করা হলো—

১. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে

যদি এমপিরা চাইলে যখন-তখন দল বদলাতে পারত, তাহলে সরকার ঘনঘন পরিবর্তন হতো। Article 70 এই ধরনের পতন-উত্থান বন্ধ করে স্থিতিশীল সরকার পরিচালনা নিশ্চিত করে।

২. ঘুষ, কুম্পলিং ও জাতীয় ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ

পাকিস্তান আমলে এমপি কেনা-বেচা, ঘুষ দিয়ে সরকার পতনের মতো ঘটনা ছিল সাধারণ। অনুচ্ছেদ ৭০ এসব অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে।

৩. দলীয় শৃঙ্খলা বজায় থাকে

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান। Article 70 দলীয় নীতি ও একতা বজায় রাখে।

৪. সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংসদ স্থিতিশীল থাকে

বিরোধী দল ও ক্ষমতাসীন দল উভয়ই সহজে বুঝতে পারে সরকারের অবস্থান; অনিশ্চয়তা কমে।

৫. জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস সহজ হয়

যেমন: বাজেট, জাতীয় নিরাপত্তা আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি—দলীয় বিভক্তি থাকলে এসব আইন পাস করা কঠিন হতে পারত।

Article 70-এর বিপক্ষে যুক্তি (Arguments Against)

অনুচ্ছেদ ৭০ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয় গণতান্ত্রিক অধিকারের সীমাবদ্ধতার কারণে। নিচে বিশদ যুক্তি দেওয়া হলো—

১. এমপিদের স্বাধীনতা ও বিবেক-বোধ দমন করে

সংসদ সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও তারা নিজ বিবেক বা জনগণের মত অনুযায়ী ভোট দিতে পারেন না।
ফলে সংসদ ব্যক্তিক ও নৈতিক স্বাধীনতা হারায়।

২. সংসদে বিতর্কের পরিবেশ দুর্বল হয়

যেহেতু এমপি দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেতে পারে না, তাই তারা স্বাধীনভাবে মতামত দিয়ে আইন সংশোধন করতে সাহস পায় না। এটা সংসদের গুণগত মান কমায়।

৩. প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়

বাংলাদেশে সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী দলনেতা হওয়ায়—
Article 70 কার্যত প্রধানমন্ত্রীকে সংসদ নিয়ন্ত্রণের অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয়।

৪. আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া “পক্ষ-বিপক্ষহীন” একমুখী হয়ে পড়ে

বিল পাস হয় শুধুই দলীয় সিদ্ধান্তে; ব্যক্তিগত মূল্যায়ন বা constituency-based আলোচনা সীমিত হয়ে পড়ে।

৫. বিরোধী দলের কমিটি বা বিল নিয়ে অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত চাপা পড়ে

দলগুলোর মধ্যে নীতি-গত দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকে না।

৬. গণতন্ত্রের “চেক অ্যান্ড ব্যালান্স” দুর্বল হয়

সংসদ কার্যত সরকারের rubber stamp হয়ে যায়, যা গণতন্ত্রের গুণগত মান কমায়।

সম্ভাব্য সংস্কার প্রস্তাব (Academic Discussion)

(পরীক্ষায় লেখলে উচ্চমানের উত্তর হবে)

১. নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে বিবেকভোট (conscience vote) অনুমোদন
২. Budget ও No-confidence motion ছাড়া অন্যান্য বিলে স্বাধীন ভোটের সুযোগ
৩. দলত্যাগের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করা
৪. দলীয় গণতন্ত্র চর্চা বৃদ্ধি করা

উপসংহার

Article 70 বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে এটি একই সঙ্গে সাংসদদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সীমিত করে এবং গণতান্ত্রিক deliberation বা বিতর্ক-ভিত্তিক আইন প্রণয়ন দুর্বল করে দেয়। তাই এর পক্ষে ও বিপক্ষে উভয় অবস্থানই শক্তিশালী, এবং একাডেমিকভাবে এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অন্যতম সবচেয়ে আলোচিত ধারা।


Q4. Different amendments of Bangladesh Constitution. 

ভূমিকা

১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাজনীতি, নির্বাচন, প্রশাসন, মৌলিক অধিকার—বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে সময়ে সময়ে সংবিধানে সংশোধনী আনা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট **সতেরো (১৭)**টি সংশোধনী পাস হয়েছে। নিচে ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি সংশোধনী ব্যাখ্যা করা হলো।

১ম সংশোধনী (1973)

  • যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার উদ্দেশ্যে Article 47A যোগ করা হয়।

  • মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ মামলায় বিশেষ আইনি বিধান সংযোজন।
    উদ্দেশ্য: মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

২য় সংশোধনী (1973)

  • বিশেষ শক্তি আইন (Emergency Powers) যুক্ত হয়।

  • জাতীয় নিরাপত্তা ও জরুরি আইনি কাঠামো সংযোজন।

৩য় সংশোধনী (1974)

  • ভারত-বাংলাদেশ স্থলসীমা চুক্তির আওতায় Berubari এলাকা বিনিময়ের সাংবিধানিক বৈধতা।

  • একটি আন্তর্জাতিক সীমানা সমন্বয়ের অনুমোদন।

৪র্থ সংশোধনী (1975)

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত সংশোধনী।
মূল পরিবর্তন—

  1. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা চালু

  2. একদলীয় ব্যবস্থা (BAKSAL)

  3. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সীমিত

  4. সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ
    ফল: সংসদীয় সরকার বাতিল, রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতাধারী।

৫ম সংশোধনী (1979)

  • সামরিক শাসনামলে (1975–79) জারি করা সব আদেশ, ঘােষণা সংবিধানে বৈধতা দেওয়া হয়।

  • রাষ্ট্রধর্ম, “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম”, “সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি আস্থা” যুক্ত হয়।

৬ষ্ঠ সংশোধনী (1981)

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ দেওয়া।

৭ম সংশোধনী (1986)

  • এরশাদ শাসনামলের কার্যক্রম (1982–86) বৈধতা দেওয়া।

  • সামরিক শাসনকে সাংবিধানিক সুরক্ষা।

৮ম সংশোধনী (1988)

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  1. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা

  2. Supreme Court-এ High Court Division-এর বাইরে আরও 6টি বেঞ্চ কমিশন করার ক্ষমতা
    ফল: রাষ্ট্রীয় আদর্শে ব্যাপক পরিবর্তন।

৯ম সংশোধনী (1989)

  • রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে।

  • রাষ্ট্রপতির মেয়াদ সীমা।

পরবর্তীতে ১২তম সংশোধনীতে এটি বাতিল হয়।

১০ম সংশোধনী (1990)

  • জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ১০ বছর বৃদ্ধি।

১১তম সংশোধনী (1991)

  • বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বৈধতা।

  • নির্বাচনকালীন সরকারের সাংবিধানিকতা নিশ্চিত করে।

১২তম সংশোধনী (1991)

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী।

  1. পুনরায় সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালু

  2. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমানো

  3. প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদকে নির্বাহী ক্ষমতা প্রদান

  4. সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা

১৩তম সংশোধনী (1996)

  • Caretaker Government ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত (Articles 58B–58E)।

  • নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের কাঠামো তৈরি।
    ফল: 1996, 2001, 2008 নির্বাচনে প্রয়োগ।

পরে ১৫তম সংশোধনীতে বাতিল।

১৪তম সংশোধনী (2004)

  • সংসদে নারী আসন বৃদ্ধি ৩০ → ৪৫

  • বিচারপতিদের অবসরের বয়স পরিবর্তন

  • রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি অফিসে প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা।

১৫তম সংশোধনী (2011)

বাংলাদেশের সংবিধানে অন্যতম বড় সংশোধনী।

  1. Caretaker Government বাতিল

  2. মৌলিক চার রাষ্ট্রীয় আদর্শ (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা) পুনঃপ্রতিষ্ঠা

  3. সংবিধান ছিন্ন করার কোনো সুযোগ নেই (“Basic Structure Doctrine”)

  4. নির্বাচন হবে দলীয় সরকারের অধীনে

  5. সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি ৫০

১৬তম সংশোধনী (2014)

  • সংসদকে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানি ও অপসারণ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
    পরে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ এই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

১৭তম সংশোধনী (2018)

  • সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ → ৫০ রেখে মেয়াদ আরও ২৫ বছর বৃদ্ধি।

সারসংক্ষেপ (Short Summary for Exam)

সংক্ষেপে সংশোধনীগুলো কী—

সংশোধনীমূল বিষয়
1stযুদ্ধাপরাধ বিচার
2ndজরুরি ক্ষমতা
3rdভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সমন্বয়
4thরাষ্ট্রপতি শাসন, একদলীয় ব্যবস্থা
5thসামরিক শাসনের বৈধতা, রাষ্ট্রধর্ম
6thরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যোগ্যতা
7thএরশাদের সামরিক শাসনের বৈধতা
8thইসলাম রাষ্ট্রধর্ম, HC বেঞ্চ
9thরাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ নির্বাচন
10thনারী আসন বাড়ানো
11thবিচারপতি সাহাবুদ্দীনকে রাষ্ট্রপতি
12thসংসদীয় সরকারব্যবস্থা
13thCaretaker Government
14thনারী আসন বাড়ানো, বিচারপতি বয়স
15thCaretaker বাতিল, চার মূলনীতি
16thবিচারপতিদের অপসারণে সংসদের ক্ষমতা
17thনারী আসন মেয়াদ বৃদ্ধি

উপসংহার

বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনীগুলো সময়ের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রয়োজন মেটাতে প্রণীত হয়েছে। কিছু সংশোধনী গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে, আবার কিছু সংশোধনী রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। সামগ্রিকভাবে এসব সংশোধনী বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাস ও রাষ্ট্রীয় বিবর্তনকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।


Q5. Law making process of Bangladesh. 

(বাংলাদেশে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া)**

ভূমিকা

বাংলাদেশে আইন প্রণয়ন মূলত জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) কর্তৃক সম্পন্ন হয়। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫–৯৩ এ আইনসভা ও আইনি প্রক্রিয়ার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। আইন প্রণয়ন একটি ধীর, ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়া প্রক্রিয়া, যেখানে বিল উত্থাপন থেকে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন—সমস্ত কিছু সাংবিধানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত।

১. আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক ভিত্তি (Constitutional Basis)

  • Article 65(1): আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত।

  • Article 80: Bills-এর উত্থাপন, পাস ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নির্ধারণ।

  • Article 70: দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসরণ বাধ্যতামূলক; floor-crossing নিষেধ।

  • Article 93: অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা (President’s Ordinance-Making Power)।

২. আইন প্রণয়নকে কেন্দ্র করে মূল ধাপসমূহ (Stages of Law-Making Process)

ধাপ ১: বিল প্রস্তুতকরণ (Drafting of a Bill)

বিল সাধারণত—

  • সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়,

  • আইন মন্ত্রণালয়,

  • বিশেষজ্ঞ কমিটি
    দ্বারা খসড়া (draft) আকারে প্রস্তুত হয়।

বিলের ধরণ:

  1. Government Bill – সরকারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত (সাধারণত এটাই প্রধান)।

  2. Private Member’s Bill – সাধারণ সংসদ সদস্য কর্তৃক উত্থাপিত।

ধাপ ২: সংসদে বিল উত্থাপন (Introduction of the Bill)

Article 80(1)

বিল প্রথমবার সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এই ধাপকে বলা হয়—

First Reading / First Stage

এ সময়ে বিলের শিরোনাম পড়া হয়, এবং এটি সংসদের বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হয়।

ধাপ ৩: সংসদীয় কমিটিতে প্রেরণ (Sending to Standing Committee)

বিলটি সাধারণত সংশ্লিষ্ট পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো হয়।
কমিটি—

  • খুঁটিনাটি পরীক্ষা করে,

  • সংশোধনী প্রস্তাব দেয়,

  • বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়।

এ ধাপ সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।

ধাপ ৪: বিলের দ্বিতীয় পাঠ (Second Reading – Discussion Stage)

এ পর্যায়ে—

  • সংসদ সদস্যরা বিলের বিভিন্ন ধারা নিয়ে বিস্তারিত বিতর্ক করেন,

  • সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করা হয়।

ধাপ ৫: বিলের তৃতীয় পাঠ (Third Reading – Voting Stage)

এ পর্যায়ে বিলটি ভোটে তোলা হয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Simple Majority) থাকলে বিলটি সংসদে পাস হয়।

দ্রষ্টব্য:

  • সংবিধান সংশোধন বিল পাসের জন্য প্রয়োজন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Article 142)

ধাপ ৬: সংসদে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন (President’s Assent)

Article 80(3)

বিল পাস হলে স্পিকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতির সময়সীমা—

  • ৭ দিনের মধ্যে অনুমোদন বা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করতে পারেন।

  • পুনরায় সংসদে পাঠালে সংসদ যদি আবার পাস করে, রাষ্ট্রপতি বাধ্যতামূলকভাবে অনুমোদন দেন।

ধাপ ৭: সরকারি গেজেটে প্রকাশ (Gazette Notification)

রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলে বিলটি

"Act of Parliament"

হয়ে যায় এবং সরকার Bangladesh Gazette-এ প্রকাশ করে।
এই প্রকাশের পর আইন কার্যকর হয় (যদি কার্যকর হওয়ার আলাদা তারিখ নির্ধারিত না থাকে)।

৩. অধ্যাদেশ দ্বারা আইন প্রণয়ন (Law-making by Ordinance) – Article 93

সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি সরকারের পরামর্শে Ordinance জারি করতে পারেন।

  • এটি কার্যত আইনসম।

  • কিন্তু সংসদ অধিবেশন শুরু হলে ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে বাতিল হয়।

৪. আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অঙ্গের ভূমিকা

(১) মন্ত্রিসভা (Cabinet)

  • খসড়া বিল অনুমোদন

  • নীতি নির্ধারণ

(২) সংসদ (Parliament)

  • বিতর্ক, সংশোধন, ভোট

  • জনগণের কাছে জবাবদিহি

(৩) রাষ্ট্রপতি (President)

  • Assent বা return

  • জরুরি ক্ষেত্রে Ordinance জারি

(৪) সংসদীয় কমিটি

  • Scrutiny, সংশোধনী, বিশেষজ্ঞ মতামত

৫. সংক্ষেপে ধাপগুলো (Exam-friendly Summary)

১. বিলের খসড়া তৈরি
২. সংসদে First Reading (উত্থাপন)
৩. কমিটিতে প্রেরণ
৪. Second Reading (আলোচনা)
৫. Third Reading (ভোট)
৬. রাষ্ট্রপতির অনুমোদন
৭. গেজেটে প্রকাশ → আইন কার্যকর

উপসংহার

বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সংসদীয় পদ্ধতির ন্যায় একটি গণতান্ত্রিক, ধীরে ধীরে সম্পন্ন হওয়া, বহুস্তরীয় প্রক্রিয়া। এতে সংসদ, মন্ত্রিসভা, রাষ্ট্রপতি ও বিভিন্ন কমিটির অংশগ্রহণ থাকে। এ প্রক্রিয়া কার্যকর থাকলে দেশ পরিচালনা, ন্যায়বিচার ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।


Q6. Challenges in the legislative process of Bangladesh. 

বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সংবিধান দ্বারা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হলেও বাস্তবক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া নানা ধরনের সাংবিধানিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। প্রথমত, সংসদের কার্যকারিতায় বিরোধী দলের ভূমিকা দুর্বল হওয়া একটি বড় সমস্যা। অনেক সময় বিরোধী দল সংসদে অনুপস্থিত থাকে অথবা কার্যকর বিরোধী মত উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক বিতর্ক এবং পারস্পরিক জবাবদিহিতা কমে যায়। দ্বিতীয়ত, দলীয় শৃঙ্খলা ও অনুচ্ছেদ ৭০–এর প্রভাবে সংসদ সদস্যরা সরকারের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য থাকেন; ফলে স্বাধীন মত প্রকাশ, গঠনমূলক সমালোচনা এবং আইন নিয়ে গভীর আলোচনা অনেক ক্ষেত্রে সীমিত হয়ে পড়ে। এর ফলে সংসদে মতবিনিময়মূলক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আইনগুলোর গুণগত মান কমে যায়।

এ ছাড়া আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ বিল প্রশাসনের হাতে প্রস্তুত হয় এবং মন্ত্রণালয়ের খসড়াকেই সংসদ সাধারণত অনুমোদন করে থাকে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা অনেক সময় প্রান্তিক হয়ে পড়ে, যার ফলে আইনে জনগণের প্রত্যক্ষ চাহিদা ও মতামত পর্যাপ্তভাবে প্রতিফলিত হয় না। একইভাবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর দক্ষতা ও সক্রিয়তা সর্বদা সমান নয়। অনেক ক্ষেত্রে কমিটিগুলো পর্যাপ্ত গবেষণা, বিশেষজ্ঞ মতামত বা জনমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না, যা একটি মানসম্মত আইন প্রণয়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময়সীমা ও আলোচনার ঘাটতি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিল অল্প সময়ের মধ্যে পাস করা হয়, কখনো কখনো তড়িঘড়ি করে সংসদে উপস্থাপন ও অনুমোদন নেওয়া হয়, ফলে পর্যাপ্ত পর্যালোচনা বা সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয় না। বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়াও প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে। এর পাশাপাশি তথ্য–উপাত্তের ঘাটতি এবং গবেষণার অভাবও কার্যকর আইন তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। অনেক সংসদ সদস্যের আইনগত কারিগরি জ্ঞানের অভাব থাকায় বিলের আইনি জটিলতা—ধারা, উপধারা, শব্দ প্রয়োগ ইত্যাদি—বুঝতে সমস্যা হয়। একইসঙ্গে সংসদ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গবেষণা সহায়তা ও আইন বিশ্লেষণের ক্ষমতাও বহু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নয়। তাছাড়া নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ সীমিত থাকায় আইনগুলো অধিকতর গণমুখী হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

সবশেষে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলীয় স্বার্থ, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং নির্বাহী বিভাগের প্রভাব—এসবই আইন প্রণয়নকে প্রভাবিত করে। কখনো কখনো আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া নির্বাহী বিভাগের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হয়, ফলে সংসদের স্বাধীনতা ও আইনের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সবমিলিয়ে এসব চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে এবং একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সংসদ প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করে।


Q7. Fundamental rights according to the constitution. 

বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (Part III), অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭এ–এর মধ্যে মৌলিক অধিকার নির্ধারিত হয়েছে, যা নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা প্রদান করে। মৌলিক অধিকারগুলোর উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকানো, নাগরিকদের স্বাধীন জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা। সংবিধানের ২৬(১) ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্র কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারবে না যা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী; এমন আইন শূন্য ও বাতিল বলে গণ্য হবে।

মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও বৈষম্যহীনতা (Articles 27–29)। প্রত্যেক নাগরিক আইনের চোখে সমান; ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা বা জন্মসূত্রে কারও বিরুদ্ধে বৈষম্য করা যাবে না। সরকারি চাকরিতে ন্যায়সঙ্গত সুযোগ নিশ্চিতকরণও এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। এরপর রয়েছে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার (Article 31) এবং ব্যক্তির নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষার অধিকার (Article 32)—যে অধিকারগুলোর মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক আইনানুগ নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং উপযুক্ত আইনি প্রতিকার পাওয়ার নিশ্চয়তা পায়।

সংবিধান নাগরিকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা (Article 33) রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা দেয়। কেউ ইচ্ছামতো গ্রেপ্তার, আটক বা নির্যাতনের শিকার হতে পারে না; আটক ব্যক্তির অধিকার, আইনজীবী পাওয়ার অধিকার এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিতির সময়সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ নিষিদ্ধ (Article 35) করা হয়েছে এবং একই অপরাধে দু’বার শাস্তি (double jeopardy) দেওয়া যাবে না।

গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি অধিকার হলো চিন্তা, বিবেক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা (Article 39), যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রাণস্পন্দন হিসেবে বিবেচিত। নাগরিকরা যুক্তিসঙ্গত সীমাবদ্ধতার মধ্যে মতামত প্রকাশ, লেখা, বক্তৃতা ও সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করে। একইভাবে সমাবেশ ও সংগঠন করার অধিকার (Article 37) এবং সংঘবদ্ধ হওয়ার অধিকার (Article 38) নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে এগিয়ে নিয়ে যায়। চলাফেরা ও বসবাসের স্বাধীনতা (Article 36) নাগরিককে দেশের যেকোনো স্থানে যাতায়াত বা বসবাস করার স্বাধীনতা দেয়।

এ ছাড়াও সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ধর্ম পালনের স্বাধীনতা (Article 41) অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন, প্রচার ও সম্প্রসারণ করতে পারে; কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় জবরদস্তি বা বৈষম্যের শিকার হতে পারে না। সম্পত্তির অধিকার (Article 42) রক্ষা করে সংবিধান জানিয়ে দিয়েছে যে ব্যক্তিমালিকানা রাষ্ট্র স্বীকৃত, তবে জনস্বার্থে অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পেশা বা ব্যবসা পরিচালনার স্বাধীনতা (Article 40) নাগরিকদের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বিস্তারকে নিশ্চিত করে।

নাগরিকের স্বার্থরক্ষার লক্ষ্যে রয়েছে শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষার অধিকার (Article 23) এবং সংখ্যালঘু সংস্কৃতি–ভাষার সুরক্ষা। একইসঙ্গে বিচার পাওয়ার অধিকার (Article 44) এবং উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করার ক্ষমতা মৌলিক অধিকারগুলোর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করে। কোনো ব্যক্তি যদি মনে করে তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তবে সে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে রিট করতে পারে—যা বাংলাদেশের মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।

সবশেষে, সংবিধানের ৪৭(এ)–এ বলা হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার স্থগিত থাকতে পারে, বিশেষত যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে। তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয় এবং নাগরিকের স্বাধীন জীবন নিশ্চিতে সংবিধান এই অধিকারগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

OR

Fundamental Rights under the Constitution of Bangladesh

বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (Part III), অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭এ–এর মধ্যে মৌলিক অধিকারসমূহ নির্ধারিত হয়েছে, যা নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। এই অধিকারগুলোর উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধ, মানুষের স্বাধীন জীবনযাত্রা সুরক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করা।

1. Equality Rights (অনুচ্ছেদ 27–29)

আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান এবং ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা বা জন্মসূত্রে কারও বিরুদ্ধে বৈষম্য করা নিষিদ্ধ। সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

2. Protection of Law & Right to Life (অনুচ্ছেদ 31–32)

প্রত্যেক নাগরিক আইনানুগ সুরক্ষা পাবে এবং তাকে ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া জীবন ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এই অধিকার মানব মর্যাদা রক্ষার মূল ভিত্তি।

3. Protection in Respect of Trial & Punishment (অনুচ্ছেদ 33–35)

কেউ ইচ্ছামতো গ্রেপ্তার বা আটক হতে পারে না; আটক ব্যক্তির আইনজীবী পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নির্যাতন, নিষ্ঠুর ও অমানবিক শাস্তি সংবিধান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং একই অপরাধে দু’বার শাস্তি দেওয়া যাবে না।

4. Freedom of Movement (অনুচ্ছেদ 36)

প্রত্যেক নাগরিক দেশের যেকোনো স্থানে অবাধে যাতায়াত, বসবাস ও স্থানান্তর করতে পারে, যুক্তিসঙ্গত সীমাবদ্ধতা ছাড়া।

5. Freedom of Assembly (অনুচ্ছেদ 37)

শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশ, মিছিল ও সভা করার অধিকার নাগরিকদের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকারগুলোর একটি।

6. Freedom of Association (অনুচ্ছেদ 38)

নাগরিকরা স্বাধীনভাবে সংগঠন, সমিতি, রাজনৈতিক দল বা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে পারে।

7. Freedom of Thought & Expression (অনুচ্ছেদ 39)

চিন্তা, বিবেক, মতামত প্রকাশ, লেখা-লেখি, বক্তৃতা ও সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা রাষ্ট্র স্বীকৃত করেছে। গণতন্ত্র রক্ষায় এই অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

8. Freedom of Religion (অনুচ্ছেদ 41)

প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন, প্রচার ও প্রসার করতে পারে এবং কোনো ধর্ম পালন করতে বাধ্য করা যাবে না।

9. Property Rights (অনুচ্ছেদ 42)

ব্যক্তির সম্পত্তির অধিকার রাষ্ট্র স্বীকার করে। তবে জনস্বার্থে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়ে সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা যেতে পারে।

10. Profession or Occupation Rights (অনুচ্ছেদ 40)

নাগরিকরা বৈধ ও নৈতিক যে কোনো পেশা, চাকরি বা ব্যবসা পরিচালনা করার স্বাধীনতা ভোগ করে।

11. Cultural & Educational Rights (অনুচ্ছেদ 23, 23A)

সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষার নির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অধিকারের মাধ্যমে বহুসংস্কৃতিবাদকে রাষ্ট্র সমুন্নত রাখে।

12. Right to Constitutional Remedies (অনুচ্ছেদ 44)

যদি কোনো নাগরিক মনে করে তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তবে সে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করতে পারে। এটি মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের প্রধান উপায়।

13. Suspension of Certain Rights (অনুচ্ছেদ 47A)

যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক অধিকার স্থগিত থাকতে পারে। তবে সাধারণ পরিস্থিতিতে এই অধিকারগুলো রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।


Q8. Functions and formation of Jatiya Sangsad.

জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) – গঠন ও কার্যাবলী

১. সংজ্ঞা ও ভূমিকা:
জাতীয় সংসদ হলো বাংলাদেশের একক আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। এটি দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা এবং দেশের সরকার পরিচালনার জন্য মূল নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। সংবিধান অনুযায়ী, এটি জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা গঠিত হয়। সংসদ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের নীতিমালা নির্ধারণ, আইন প্রণয়ন এবং সরকারের কার্যক্রম তদারকি করার জন্য প্রধান সংস্থা।

২. গঠন (Formation of Jatiya Sangsad):

  • বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ একক কক্ষ বিশিষ্ট (unicameral)। অর্থাৎ এখানে একটি মাত্র আইনসভা রয়েছে।

  • সংসদে সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জন (সংবিধানের ৭ সংসদ সংশোধন অনুযায়ী) এবং এর মধ্যে:

    • ২৫০ জন সদস্য সাধারণ ভোটে নির্বাচিত হয়, যা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে।

    • ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য, যা প্রাপ্ত আসনের অনুপাত অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলি মনোনয়ন করে সংসদে পাঠায়।

    • বাকী আসনগুলি বিভিন্ন সংবিধান সংশোধনের পরে প্রয়োজনে সমন্বয় করা হতে পারে।

  • সদস্যের যোগ্যতা: সদস্য হতে হলে বাংলাদেশী নাগরিক, ন্যূনতম ২৫ বছর বয়সী এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য হতে হবে।

৩. অধিবেশন (Sessions of Jatiya Sangsad):

  • সংসদের কার্যক্রম অধিবেশন আকারে অনুষ্ঠিত হয়।

  • সংবিধান অনুযায়ী, একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পর পরবর্তী অধিবেশন শুরু হওয়া প্রায় ৬ মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলক

  • সাধারণত, অধিবেশন পরিচালিত হয় জাতীয় সংসদের কমপ্লেক্সে, ঢাকা শহরে, যা রাষ্ট্রপতির দপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

  • অধিবেশনে সংসদ সদস্যরা আইন প্রস্তাব, বাজেট, নীতিমালা এবং সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করে এবং ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

৪. প্রধান কার্যাবলী (Functions of Jatiya Sangsad):

১. আইন প্রণয়ন (Legislation):

  • সংসদ নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন সংশোধন বা বাতিল করতে পারে।

  • বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদনও সংসদের অধিকার।

২. সরকারের তদারকি (Oversight of Government):

  • সংসদ সরকারের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে।

  • প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সংসদে প্রশ্নোত্তর এবং হিয়ারিং এর মাধ্যমে কার্যক্রম ব্যাখ্যা করতে হয়।

৩. জাতীয় নীতি নির্ধারণ (Policy-making):

  • দেশের শিক্ষানীতি, স্বাস্থ্যনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক নীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪. সাংবিধানিক ক্ষমতা (Constitutional Powers):

  • সংবিধান সংশোধন, রাষ্ট্রপতির নির্বাচন প্রস্তাব অনুমোদন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য সংসদ গুরুত্বপূর্ণ।

৫. গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার রক্ষা:

  • সংসদ দেশের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের অভিপ্রায় সরকারের নীতিতে প্রতিফলিত করতে সহায়ক।

৫. সংক্ষেপে:
জাতীয় সংসদ হলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী এবং সরকার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। এটি একক কক্ষবিশিষ্ট, ঢাকা কেন্দ্রিক এবং সদস্যরা নির্বাচিত ও সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে গঠিত। সংসদ আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন, সরকারের তদারকি, নীতি নির্ধারণ এবং সংবিধান রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


Q9. Fundamental state principles according to 1972's constitution and proposed state principles of reform commission. 

মৌলিক রাষ্ট্রনীতি (Fundamental State Principles) – ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী

১৯৭২ সালের সংবিধান বাংলাদেশের রাষ্ট্রের মূল দিকনির্দেশনা এবং নীতি নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে মৌলিক রাষ্ট্রনীতি (Fundamental State Principles) ধারণ করেছে। এগুলো রাষ্ট্রের নীতি, দৃষ্টিভঙ্গি ও সরকার পরিচালনার মূল ভিত্তি। সংবিধান অনুযায়ী, মৌলিক রাষ্ট্রনীতির মূল স্তম্ভ হলো:

১. গণতন্ত্র (Democracy):

  • বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে রাষ্ট্রক্ষমতা জনগণের কাছ থেকে আসে। জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন করে এবং সরকারের নীতি-নির্ধারণে অংশগ্রহণ করে।

২. সাম্য (Socialism/Equality):

  • সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

  • সম্পদের সুবিন্যয় এবং দরিদ্রদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা।

৩. জাতীয়তাবাদ (Nationalism):

  • বাংলাদেশের রাষ্ট্র এবং জনগণকে একত্রিত করার মূল ভিত্তি

  • জাতীয় স্বাতন্ত্র্য, ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ।

৪. মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা (Fundamental Human Rights):

  • সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার, যেমন স্বাধীনতা, সমতার অধিকার, শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা।

৫. আইনের শাসন (Rule of Law):

  • সকলের জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য।

  • সরকারও আইনের অধীন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে মুক্ত।

৬. ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism):

  • রাষ্ট্র নিরপেক্ষ থাকবে এবং কোনো ধর্মকে প্রাধান্য দেবে না।

  • ধর্ম স্বাধীনতা ও সকল ধর্মের প্রতি সমান মনোভাব।

সংবিধানের আর্টিকেল 8-এর মাধ্যমে এই মৌলিক রাষ্ট্রনীতিগুলো রাষ্ট্রের দিকনির্দেশক নীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এগুলো “আনফোর্সেবল” অর্থাৎ সরাসরি আদালতের মাধ্যমে প্রয়োগযোগ্য নয়, তবে সরকার ও নীতি-নির্ধারণে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা।

সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত রাষ্ট্রনীতি (Proposed State Principles by Reform Commission)

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে সংবিধান সংস্কার কমিশন রাষ্ট্রনীতি পুনঃনির্ধারণের প্রস্তাব দেয়। বিশেষত ২০০৪ সালের সংবিধান সংস্কার কমিশন রাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনায় কিছু পরিবর্তন প্রস্তাব করেছিল। মূল প্রস্তাবগুলো ছিল:

১. অর্থনৈতিক উদারীকরণ (Economic Liberalization):

  • রাষ্ট্রের নীতি কেবল সমাজতান্ত্রিক হবে না, বরং বাজার অর্থনীতি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগকেও সমর্থন করবে।

২. শক্তিশালী গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা (Strengthened Democracy & Accountability):

  • প্রশাসন ও সরকারের সকল স্তরে জনগণের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

৩. দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক সংস্কার (Anti-corruption & Administrative Reform):

  • রাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী দুর্নীতি নির্মূল এবং প্রশাসন দক্ষ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে।

৪. পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন (Environmental & Sustainable Development):

  • রাষ্ট্র নীতি পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দেবে।

৫. ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবাধিকারের সম্প্রসারণ (Secularism & Expanded Human Rights):

  • ধর্মনিরপেক্ষ নীতি বজায় রাখার পাশাপাশি সকল নাগরিকের মানবাধিকার আরও সুদৃঢ়ভাবে সংবিধানে প্রতিফলিত হবে।

৬. জাতীয় ঐক্য ও বহুসাংস্কৃতিক মূল্যবোধ (National Unity & Multicultural Values):

  • জাতীয় ঐক্য, ভাষা, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা।

অর্থাৎ সংস্কার কমিশন মূল রাষ্ট্রনীতির ধারাকে ধরে রাখে, তবে বাস্তবায়নযোগ্য, আধুনিক ও কার্যকর প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা হিসেবে এগুলোকে প্রস্তাব করে।

সংক্ষেপে তুলনামূলক দিক

দিক১৯৭২ সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রস্তাব
অর্থনীতিসমাজতান্ত্রিক বাজারভিত্তিক ও উদারীকৃত
গণতন্ত্র    মৌলিক, নিয়ন্ত্রিত                 শক্তিশালী ও জবাবদিহী
মানবাধিকারমৌলিক অধিকারসম্প্রসারিত ও কার্যকর
পরিবেশউল্লেখ নেইটেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ
ধর্মনিরপেক্ষতাধর্মনিরপেক্ষবজায় রাখা, আরো স্পষ্টভাবে প্রয়োগযোগ্য
প্রশাসননিয়মিত প্রশাসনদুর্নীতি দমন ও দক্ষ প্রশাসন


Q10. Constitution making history of  Bangladesh.

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং জাতীয় সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এটি মূলত দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়।

১. প্রেক্ষাপট (Background)

  • ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগে:

    • পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে বাংলার জনগণ পাকিস্তানি সংবিধান ও সরকারের অধীনে বসবাস করছিল।

    • রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য ছিল ব্যাপক।

    • ভাষা আন্দোলন, রাজনৈতিক চেতনা এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের পরপরে পাকিস্তানি সামরিক শাসনের অত্যাচার এবং গণহত্যা স্বাধীনতার চেতনা তীব্র করেছিল।

  • মুক্তিযুদ্ধ (1971 Liberation War):

    • ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

    • স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা ও মৌলিক নীতি নির্ধারণের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়।

২. সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ (Constitution Making Initiative)

  • স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) গঠন করা হয়।

  • প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান নেতৃত্বে গণপরিষদে সংবিধান প্রণয়নের কাজ শুরু হয়।

  • সংবিধান প্রণয়নের জন্য সংবিধান প্রণয়ন পরিষদ (Constituent Assembly) গঠন করা হয়।

৩. সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া (Constitution Making Process)

  1. প্রস্তুতিমূলক কাজ:

    • আন্তর্জাতিক সংবিধানগুলো (যেমন ভারত, যুক্তরাষ্ট্র) এবং দেশীয় চাহিদার ভিত্তিতে খসড়া তৈরি করা হয়।

    • গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমতা, বিচার ও প্রশাসনিক কাঠামো সংক্রান্ত নীতিগুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

  2. প্রণয়ন ও আলোচনা:

    • সংবিধান খসড়া জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং সদস্যদের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    • বিভিন্ন বিষয় যেমন মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রনীতি, শাসনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, সংসদের কাঠামো এবং সংবিধান সংশোধনের বিধান প্রণীত হয়।

  3. সংবিধান অনুমোদন (Adoption):

    • ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান অনুমোদন করা হয়।

    • এটি ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হয়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিজয়ের দিনকেই স্মরণীয় করে তোলে।

৪. বৈশিষ্ট্য (Key Features of the Constitution)

  • একক কক্ষবিশিষ্ট সংসদ: একক আইন প্রণয়নকারী সংস্থা।

  • গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা: সর্বোচ্চ ক্ষমতা জনগণের হাতে।

  • ধর্মনিরপেক্ষতা: রাষ্ট্র কোন ধর্মকে প্রাধান্য দেবে না।

  • মৌলিক মানবাধিকার: নাগরিকদের স্বাধীনতা ও সমতার অধিকার নিশ্চিত।

  • রাষ্ট্রনীতি (State Principles): সমাজতান্ত্রিক নীতি, জাতীয়তাবাদ, মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা।

৫. সংবিধান প্রণয়নের গুরুত্ব (Significance)

  1. স্বাধীন বাংলাদেশের আইনগত ভিত্তি স্থাপন।

  2. গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

  3. জনগণের মৌলিক অধিকার ও সমতার নিশ্চয়তা।

  4. প্রশাসন ও সরকারের কার্যক্রমের জন্য কাঠামোগত দিকনির্দেশনা প্রদান।

৬. সংক্ষিপ্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণ

  • ১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা ঘোষণা।

  • ১৯৭২, জানুয়ারি: সংবিধান প্রণয়ন পরিষদ গঠন।

  • ১৯৭২, ৪ নভেম্বর: সংবিধান অনুমোদন।

  • ১৯৭২, ১৬ ডিসেম্বর: সংবিধান কার্যকর।

সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও স্বাধীনতার চেতনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এটি রাষ্ট্রের মূল নীতি ও নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Principles of Economics - Kamrunnahar Koli

Local Governance and Rural Development in Bangladesh - Fazlul Haque Polash

European History and Modern World - Md. Jahid Hashan